ইউরোপে রুশ গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছে ইউক্রেন

রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের একটি পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে ইউক্রেন।

রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের একটি পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে ইউক্রেন। যুদ্ধের আগে করা একটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে কিয়েভ। খবর এপি।

প্রায় তিন বছর ধরে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালিয়ে আসছে মস্কো। এতে দেশটির বিস্তৃত অঞ্চল ক্ষতির শিকার হলেও পাইপলাইনটি আক্রমণের লক্ষ্য হয়নি।

পাঁচ বছরের এক চুক্তির আওতায় এ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ চলছিল। এ সরবরাহ থেকে আয় করত রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা গ্যাজপ্রম। অন্যদিকে ইউক্রেন পেত ট্রানজিট ফি।

সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী হারমান হালুশচেঙ্কো বলেছেন, ‘কিয়েভ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ ট্রানজিট বন্ধ করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। রাশিয়া বাজার হারাচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপ এরই মধ্যে রুশ গ্যাসের ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইউক্রেনের পদক্ষেপ সে সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

গত মাসে ব্রাসেলসে এক সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শপথ করেছিলেন যে মস্কোকে ট্রানজিটের মাধ্যমে আয় করতে দেবে না কিয়েভ। কারণ এ আয়ে ইউক্রেনের নাগরিকদের রক্ত লেগে আছে। তবে যুদ্ধের শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়াকে অর্থ দেয়া হবে না এ শর্তে গ্যাস প্রবাহ চালু রাখার সম্ভাবনা খোলা রেখেছিলেন তিনি।

এদিকে গ্যাজপ্রম একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিয়েভ চুক্তি নবায়ন না করায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর মতো প্রযুক্তিগত ও আইনগত কোনো সক্ষমতা নেই মস্কোর।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ব্যবহৃত প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনে সরবরাহ করত রাশিয়া। এতে চারটি পাইপলাইন ব্যবহার হতো। ইউক্রেনের পাইপলাইন বাদ দিলে অন্যগুলো হলো বাল্টিক সাগরের তলদেশ, বেলারুশ ও পোল্যান্ডের মাধ্যমে এবং তুরস্কের মাধ্যমে বালকান সাগরের নিচ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইন।

রুবলে পেমেন্টের দাবি নিয়ে বিরোধের কারণে যুদ্ধ শুরুর পর বাল্টিক ও বেলারুশ-পোল্যান্ড পাইপলাইনের বেশির ভাগ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। সন্ত্রাসী হামলায় উড়ে যায় বাল্টিক পাইপলাইন। এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য থাকলেও এখনো বিস্তারিত কারণ জানা যায়নি।

এসব ঘটনায় বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়ে ইউরোপ। এরপর ভাসমান গ্যাস টার্মিনাল স্থাপনে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করে জার্মানি। একই সময়ে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে বাধ্য হয় অঞ্চলটির বাসিন্দারা। জ্বালানির এ সংকট কাটাতে বর্তমানে ইউরোপে বৃহত্তম সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে নরওয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র।

আরও